এশিয়ার সেরা দল নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই—সবার মতই প্রথম স্থানে ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় সেরা দল? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এই প্রশ্নটি বেশ আলোচিত। অনেকে বিশ্বাস করেন, আফগানিস্তানই এখন এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল। তবে এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন রশিদ খানদের কোচ জনাথন ট্রট।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একের পর এক বড় দলের বিপক্ষে জয় এনে দেওয়া আফগানিস্তান ক্রিকেটকে অনেকেই “এশিয়ার নতুন শক্তি” বলে অভিহিত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই ছন্দ যেন কিছুটা হারিয়ে ফেলেছে দলটি।
আরব আমিরাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর সংবাদ সম্মেলনে জনাথন ট্রট বলেন,
“এই মুহূর্তে আমরা নিশ্চয়ই এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল নই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কিছু বিশ্লেষক যেভাবে বলছেন, সেটা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। আমাদের আরও অনেক কিছু শেখার ও উন্নতির জায়গা আছে।”
🔹 দ্রুত উত্থান, কিন্তু এখন স্থবিরতা
২০১৮ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তান খুব অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। অভিষেক টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই জয়—যা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল অর্জন। এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে ৪টিতে। এই পারফরম্যান্সে আফগানিস্তান প্রমাণ করেছে, তারা শুধু টি-টোয়েন্টিতেই নয়, লম্বা ফরম্যাটেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
সাদা বলের ক্রিকেটে তো তাদের গল্প আরও রোমাঞ্চকর। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য ২০১ রানের ইনিংস না হলে হয়তো তারা সেমিফাইনাল খেলত। একইভাবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আফগানিস্তান পৌঁছেছিল সেমিফাইনালে, যা ছিল তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের এক বড় অর্জন।
🔹 সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও আত্মসমালোচনা
তবে সেই ধারাবাহিকতা তারা ধরে রাখতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। এশিয়া কাপেও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি দলটি। সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর প্রশ্ন উঠেছে তাদের টিম ব্যালান্স, ব্যাটিং গভীরতা ও ম্যাচ-পরিকল্পনা নিয়ে।
কোচ ট্রট বলেন,
“আমাদের দল এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তরুণ খেলোয়াড়রা ভালো করছে, কিন্তু ধারাবাহিক হতে পারছে না। সেরা দলের কাতারে থাকতে হলে নিয়মিত পারফর্ম করতেই হবে।”
🔹 বাস্তবতা মেনে এগিয়ে যেতে চান ট্রট
জনাথন ট্রট আরও যোগ করেন,
“এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ—সব দলই ভালো খেলছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হলে নিজেদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। আমি বাস্তববাদী থাকতে চাই, তাই এখনই ‘দ্বিতীয় সেরা দল’ বলার মতো অবস্থায় আমরা নেই।”
🔹 ভবিষ্যতের লক্ষ্য
আফগানিস্তান কোচের মতে, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল দল গঠন করা এবং তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। তিনি বলেন,
“দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে মাঠে ফলাফল আনতে হলে শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে হবে।”
📍 সূত্র: কলম কথা স্পোর্টস, সংবাদ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডের তথ্যসংগ্রহ।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।